নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, ‘ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্য হয়েছে। তিনি ভেবেছেন আমরা স্টুপিড। কারণ তিনি বলছেন ২০ দলের সাথে ঐক্য হয়েছে কিন্তু জামায়াতের সাথে ঐক্য হয় নাই। বিএনপির সঙ্গে ঐক্য হয়েছে কিন্তু তারেক রহমানের সঙ্গে না। তিনি ভেবেছেন আমরা আহাম্মক। আমরা লেমনচুস খাই। কারণ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান। আমার লজ্জা লাগে। কারণ ছোটকালে তার কোলে-পিঠে উঠেছিলাম।’
শামীম ওসমান বলেন, ‘ওরা নির্বাচনের জন্য জোট করেনি। এর চিত্র ভিন্ন। কারণ নারায়ণগঞ্জে পার্টি সেক্রেটারি ওবায়দুল কাদেরের গণসংযোগ ছিল। সেদিন তিনি আসেননি। অথচ সেদিন নারায়ণগঞ্জের মুন্সীখেলায় বাসে চড়ে সন্ত্রাসীরা আসছিল। বাস থামানোর কারণে পুলিশকে গুলি করে। এটা ছিল পরিকল্পিত। কারণ একটি মোটরসাইকেলে করে ৪ জন পালিয়ে যায়।’
বক্তব্যের এক পর্যায়ে শামীম ওসমান উপস্থিত সকলকে হাত মুঠো করিয়ে শপথ বাক্য পাঠ করান। এতে শেখ হাসিনার প্রতি অবিচল থাকার পাশাপাশি নৈরাজ্য মোকাবেলার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
শামীম ওসমান বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে সামনে কঠিন সময় আসছে। দেশ কী আফগানিস্তান হবে নাকি দেশ এগিয়ে যাবে। সে সিদ্ধান্ত দেশের মানুষকে নিতে হবে।’
তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল আর ড. কামালরা এখন নির্বাচনের জন্য মাঠে নামেন নাই। তারা মাঠে নেমেছেন নির্বাচনকে বানচাল করতে। বিএনপি জানে তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সে কারণেই নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছে। আর সে কারণেই তারা এমন কিছু ব্যক্তিত্বকে কাছে টেনে নিয়েছে যারা ওয়ের্স্টার্ন কান্ট্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের ব্যবহার করে কিছু একটা করতে চায় তারা।
শামীম ওসমান বলেন, ‘ড. কামালদের বলছি যদি মনে করেন আমাদের উপর আঘাত করবেন করেন আপত্তি নাই। কিন্তু আমার দেশের একজন জনগণের উপর আক্রমণ হলে নারায়ণগঞ্জবাসী আর বসে থাকবে না। তখন সবাই আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী ঢাকায় গিয়ে উঠবো। দেখবো তখন কে ঠেকায়। একদিন নেত্রীর কথায় ধৈর্য ধরেছি। কিন্তু আর না। জনগণের উপর হামলা করলে বসে থাকবো না। আমার কোনো নেতাকর্মীর উপর হামলা করলে আমরা আর লেমন চুসবো না। আমরা জানি বিদেশ থেকে টাকা আসছে। অনেক কিছু হচ্ছে। বিদেশে আর দেশে বসে অনেক পরিকল্পনা করছে।’
তিনি বলেন, ‘যদি কেউ মনে করেন বাংলাদেশের মানচিত্রের উপর আঘাত করবেন, নেত্রীর উপর হামলা করবেন তাহলে আপনারা টিকতে পারবেন না। আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, আমরা পরাধীন হওয়ার জন্য রাজনীতি করতে আসি নাই। তখন কোনো নির্দেশের জন্য বসে থাকব না।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি সকলকে অনুরোধ করবো। আপনারা প্রস্তুত থাকুন। এ লড়াইয়ে আমরা জিতবো। আবারো প্রধানমন্ত্রী হবেন শেখ হাসিনা। আবারো ক্ষমতায় আসবে আওয়ামী লীগ। সবাইকে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। শত্রু কিন্তু আমাদের ভেতরেও আছে। শুনতে পাই যুদ্ধাপরাধী অনেক পরিবারের সঙ্গে আমাদের অনেকের লোকজন যোগাযোগ রাখছেন। কথা বলছেন, পরিকল্পনা করছেন শামীম ওসমানকে ঠেকাতে।’
বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, ‘আবার কবে দেখা হবে জানি না। ভুল হলে আল্লাহর ওয়াস্তে মাফ করে দিবেন। চেষ্টা করেছি উন্নয়ন করতে আপনাদের পাশে থাকতে। আমি আপনাদের কাছে ঋণী হয়ে গেলাম। ঋণী হয়ে থাকলাম।’
শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের ইসদাইরে একেএম সামসুজ্জোহা ক্রীড়া কমপ্লেক্স মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে যোগদানের লক্ষ্যে সারা শহরজুড়েই চলে খণ্ড খণ্ড মিছিল। সংসদীয় এলাকার বিভিন্ন থানা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বিশাল বিশাল মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে সমবেত হয়। ধীরে ধীরে সমাবেশস্থল লোকে লোকারণ্যে পরিণত হতে শুরু করে।
ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফউল্লাহ বাদলের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলী, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া, পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি চন্দন শীল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ইসরাত জাহান খান স্মৃতি, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাইফউদ্দিন আহমেদ দুলাল, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানি, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ প্রমুখ।
‘লজ্জা, কামালের কোলে-পিঠে উঠেছিলাম’
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment